Ancient and Medieval Bangla Literature: questions and answers
Ancient and Medieval Bangla Literature has 45 questions from Petrobangla and Energy Sector recruitment exams and is part of Bangla Language and Literature. The 15 sample questions below come with the correct answer and an explanation.
উত্তর নাথধর্ম। ‘গোরক্ষ বিজয়’ মধ্যযুগের নাথসাহিত্যের প্রধান কাব্য, রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ। কাহিনিতে গুরু মীননাথ কদলী দেশে গিয়ে ভোগবিলাসে আটকে পড়েন, শিষ্য গোরক্ষনাথ তাঁকে উদ্ধার করে যোগের পথে ফিরিয়ে আনেন। নাথপন্থী যোগীদের শিবকেন্দ্রিক সাধনাই এর ভিত্তি, তবে শৈবধর্মের সাধারণ পূজা-কাহিনি নয়।
উত্তর শিব। মঙ্গলকাব্যের চণ্ডী আসলে শিবের স্ত্রী পার্বতী বা দুর্গার লৌকিক রূপ। ‘চণ্ডীমঙ্গল’-এ এই দেবী কালকেতু ও ধনপতির কাহিনির মাধ্যমে মর্ত্যে নিজের পূজা প্রতিষ্ঠা করেন। কাব্যধারার শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, যাঁকে ‘কবিকঙ্কণ’ বলা হয়।
উত্তর মুনিদত্ত। তিনি সংস্কৃত ভাষায় চর্যাপদের টীকা লেখেন, যার নাম ‘নির্মলগিরা’। নেপালে পাওয়া পুথিতে পদগুলোর পাশাপাশি এই টীকাও ছিল, আর এর সাহায্যেই অনেক দুর্বোধ্য পদের অর্থ বোঝা গেছে। একটি পদের টীকা তিনি করেননি। কাহ্নপা ও লুইপা নিজেরা চর্যার কবি, টীকাকার নন।
উত্তর রামায়ণ। মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ (১৮৬১) রামায়ণের লঙ্কাকাণ্ড থেকে নেওয়া। রাবণপুত্র মেঘনাদ (ইন্দ্রজিৎ) লক্ষ্মণের হাতে নিহত হওয়ার ঘটনা এর বিষয়। মধুসূদন রাবণ ও মেঘনাদকে সহানুভূতি দিয়ে এঁকেছেন। এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা বাংলার প্রথম সার্থক মহাকাব্য।
উত্তর প্রবোধচন্দ্র বাগচী। তিনি ১৯৩৮ সালে চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশ করেন। এই অনুবাদ থেকে মূল পুথির হারানো পদগুলোর অর্থ ও কবিদের নাম জানা যায়, আর মোট পদসংখ্যা নিয়েও ধারণা মেলে। মূল পুথি আবিষ্কার করেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, নেপালে, ১৯০৭ সালে।
উত্তর বৃন্দাবন দাস। মধ্যযুগে শ্রীচৈতন্যের জীবন নিয়ে লেখা কাব্যকে জীবনী কাব্য বলে। বৃন্দাবন দাসের ‘চৈতন্যভাগবত’ বাংলায় এই ধারার প্রথম বই। পরে কৃষ্ণদাস কবিরাজ লেখেন ‘চৈতন্যচরিতামৃত’, যা সবচেয়ে প্রামাণ্য ধরা হয়। নরহরি চক্রবর্তীও বৈষ্ণব জীবনী লিখেছেন, তবে প্রথম ও প্রধান নাম বৃন্দাবন দাস।
উত্তর ব্রজবুলি। মৈথিলি আর বাংলার মিশেলে গড়া একটি কৃত্রিম সাহিত্যভাষা এটি, মুখের ভাষা নয়। বিদ্যাপতির মৈথিলি পদের প্রভাবে বাঙালি বৈষ্ণব কবিরা এই ভাষায় রাধাকৃষ্ণের পদ লেখেন। গোবিন্দদাস এতে সবচেয়ে সফল। রবীন্দ্রনাথের ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ও ব্রজবুলিতে লেখা।
উত্তর নেপাল। ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজকীয় পুথিশালায় পুথিটি খুঁজে পান। নয় বছর পরে, ১৯১৬ সালে, কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ সেটি আরও তিনটি পুথির সঙ্গে এক খণ্ডে ছাপে। বাংলার লিখিত সাহিত্যের সবচেয়ে পুরোনো নমুনা এটিই।
উত্তর সপ্তম শতাব্দী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মত অনুযায়ী। তিনি বাংলার উৎপত্তি ধরেছেন সপ্তম শতকে, গৌড়ী প্রাকৃত থেকে। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ধরেছেন দশম শতক, মাগধী অপভ্রংশ থেকে। বাংলাদেশের প্রায় সব পরীক্ষায় শহীদুল্লাহর মতকেই উত্তর ধরা হয়, তবে প্রশ্নে কারও নাম থাকলে সেটি মিলিয়ে নিতে হবে।
উত্তর সৈয়দ হামজা। তিনি অষ্টাদশ শতকের কবি, ১৭৮৮ সালে ‘মধুমালতী’ রচনা করেন, আর ফকির গরীবুল্লাহর অসমাপ্ত ‘আমীর হামজা’ শেষ করেন। একই নামের কাহিনি এর আগে মুহম্মদ কবিরও লিখেছিলেন (১৫৮৮)। বিকল্পে সৈয়দ হামজাই ‘মধুমালতী’র কবি।
উত্তর মৈথিলি। বিদ্যাপতি চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতকে মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন, পদ লেখেন মৈথিলি ভাষায়। তিনি কখনো বাংলায় লেখেননি, তবু বাংলার বৈষ্ণব পদাবলিতে তাঁর প্রভাব এত বেশি যে তাঁকে বাংলা সাহিত্যের কবি হিসেবে পড়ানো হয়। তাঁর উপাধি ‘মৈথিল কোকিল’।
উত্তর রমণীপাদ। প্রাচীন যুগের একমাত্র সাহিত্য নিদর্শন চর্যাপদ, আর এর পদকর্তাদের তালিকায় এই নাম নেই। লুইপাদকে প্রথম পদকর্তা ধরা হয়, কাহ্নপাদ সবচেয়ে বেশি পদ লিখেছেন, আর ভুসুকুপাদ সংখ্যায় দ্বিতীয়। তাই এই তিনজনই প্রাচীন যুগের কবি।
উত্তর দাশরথি রায়, যিনি দাশু রায় নামে বেশি পরিচিত। উনিশ শতকে তিনি পাঁচালি গানকে সবচেয়ে জনপ্রিয় করেন, ছড়া, অনুপ্রাস আর ব্যঙ্গে ভরা তাঁর পালা শুনতে মানুষ ভিড় করত। রামনিধি গুপ্ত (নিধুবাবু) টপ্পা গানের জন্য, ফকির গরীবুল্লাহ পুঁথি সাহিত্যের জন্য, আর রামরাম বসু গদ্যের জন্য খ্যাত।
উত্তর ‘পদ্মপুরাণ’। পনেরো শতকে বরিশালের কবি বিজয়গুপ্ত মনসার কাহিনি নিয়ে যে কাব্য লেখেন, তার নাম এটি। কাব্যের ধারার নাম মনসামঙ্গল, কিন্তু বিজয়গুপ্তের বইয়ের নাম পদ্মপুরাণ। ‘মনসাবিজয়’ বিপ্রদাস পিপিলাইয়ের লেখা, আর ‘পদ্মাবতী’ আলাওলের কাব্য।
উত্তর দ্বিজ চণ্ডীদাস। চরণটি বৈষ্ণব পদাবলির, যেখানে রাধা দুঃখ করছেন যে প্রিয় তাঁর উঠান পেরিয়ে অন্যের ঘরে যায়। মধ্যযুগে চণ্ডীদাস নামে একাধিক কবি ছিলেন, আর পরীক্ষার প্রচলিত উত্তরে এই পদটি দ্বিজ চণ্ডীদাসের নামে ধরা হয়। বড়ু চণ্ডীদাসের পরিচিতি মূলত ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’-এর জন্য। দিনু ও দিহু আসলে ‘দীন চণ্ডীদাস’ নামের বিকৃত রূপ।