পাইপলাইন, রেগুলেটর ও ভাল্ভ টপিকে পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি খাত নিয়োগ পরীক্ষার ৩৬টি প্রশ্ন আছে, এটি কারিগরি ও প্রকৌশল বিদ্যা বিষয়ের অংশ। নিচের ১৫টি নমুনা প্রশ্ন সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো।
১ কুলম্ব চার্জ ৬.২৫ × 10¹⁸ টি ইলেকট্রনের চার্জের সমান। একটি ইলেকট্রনের চার্জ ১.৬ × 10⁻¹⁹ কুলম্ব। তাই ইলেকট্রনের সংখ্যা = ১ ÷ (১.৬ × 10⁻¹⁹) = ৬.২৫ × 10¹⁸। প্রশ্নে "IC" বলতে আসলে ১ কুলম্ব (1 C) বোঝানো হয়েছে।
ফিউজ নিজে গলে গিয়ে বর্তনী রক্ষা করে। এটি কম গলনাঙ্কের সরু তার, যা বর্তনীতে সিরিজে বসানো থাকে। নির্ধারিত মানের বেশি কারেন্ট গেলে তাপে তারটি গলে যায় আর বর্তনী খুলে যায়। সার্কিট ব্রেকারও বর্তনী কাটে, তবে গলে না, সুইচের মতো ট্রিপ করে এবং আবার চালু করা যায়।
Rayleigh scattering 1/λ⁴-এর সমানুপাতিক। ফাইবারের কাচে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট ঘনত্বের অসমতা থেকে এই বিক্ষেপণ হয়। তরঙ্গদৈর্ঘ্য অর্ধেক হলে ক্ষতি ১৬ গুণ বাড়ে। এ কারণে অপটিক্যাল ফাইবারে ১৩১০ ও ১৫৫০ ন্যানোমিটারের মতো লম্বা তরঙ্গদৈর্ঘ্য ব্যবহার হয়।
পাওয়ার ফ্যাক্টর দিয়ে প্রকাশ করা হয়, যেখানে θ হলো এসি বর্তনীতে ভোল্টেজ ও কারেন্টের মধ্যকার কোণ। এটি প্রকৃত শক্তি (kW) আর আপাত শক্তির (kVA) অনুপাত। বিশুদ্ধ রোধী লোডে θ = ০, তাই পাওয়ার ফ্যাক্টর ১; ইন্ডাকটিভ লোডে এটি ১-এর কম হয়।
বাংলাদেশে বাসা-বাড়িতে ২২০ ভোল্ট (একক ফেজ, ৫০ হার্জ) সরবরাহ করা হয়, যদিও আনুষ্ঠানিক মান এখন ২৩০ ভোল্ট ধরা হয়। ১১০০০ ভোল্ট (১১ কেভি) বিতরণ লাইনে আর ৩৩০০০ ভোল্টের কাছাকাছি মান সাব-ট্রান্সমিশনে ব্যবহৃত হয়। ১১০ ভোল্ট যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে চলে।
UJT (ইউনিজাংশন ট্রানজিস্টর)। এর সমতুল্য বর্তনী হলো ইমিটারে একটি ডায়োড আর দুই বেসের মাঝে দুটি রোধ (R_{B1} ও R_{B2}) সিরিজে। অপশনে "UTJ" বানান ভুল, বোঝানো হয়েছে UJT। SCR, DIAC ও TRIAC-কে এভাবে দেখানো যায় না।
সম্মুখ ঝোঁকে ডিপ্লেশন স্তর সরু হয়। ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্ত p অংশে আর ঋণাত্মক প্রান্ত n অংশে যুক্ত হলে বাহকগুলো জংশনের দিকে ঠেলে যায়, অনাবৃত আয়নের অঞ্চল ছোট হয় এবং কারেন্ট চলে। বিপরীত ঝোঁকে এর উল্টো ঘটে, স্তর চওড়া হয়।
কারেন্ট ট্রান্সফরমার (CT) দিয়ে কারেন্ট মাপা হয়। এটি লাইনের বড় কারেন্টকে নির্দিষ্ট অনুপাতে ছোট করে, যেমন ১০০০:৫, যাতে সাধারণ অ্যামিটার নিরাপদে পড়তে পারে। পোটেনশিয়াল ট্রান্সফরমার ভোল্টেজ মাপার জন্য, আর পাওয়ার ও ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজে লাগে।
ছিদ্রের ভেতরে থ্রেড কাটতে ট্যাপ ব্যবহৃত হয়। ট্যাপ শক্ত ইস্পাতের থ্রেডযুক্ত দণ্ড, যা ঘুরিয়ে ছিদ্রের দেয়ালে অভ্যন্তরীণ প্যাঁচ কাটে। ডাই দিয়ে বাইরের দিকে, যেমন বোল্টের গায়ে, থ্রেড কাটা হয়। লেদ একটি মেশিন, আর থ্রেডেড ইনসার্ট হলো আগে থেকে থ্রেড করা বসানো অংশ।
ফিউজ তারের রেটিং অ্যাম্পিয়ারে প্রকাশ করা হয়, যেমন ৫ A বা ১৫ A। এটি বলে কত কারেন্ট পর্যন্ত তার না গলে চলতে পারবে। অ্যাম্পিয়ার-ঘণ্টা ব্যাটারির ধারণক্ষমতা, ভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার আপাত শক্তি, আর কিলোওয়াট-ঘণ্টা শক্তি খরচের একক।
CNG-তে লিকেজ সমস্যা বেশি। CNG সিলিন্ডারে প্রায় ২০০ বারের মতো খুব উচ্চ চাপে রাখা হয়, অথচ LPG থাকে অনেক কম চাপে তরল অবস্থায়। চাপ বেশি হলে ভাল্ব ও জোড়ার ছোট ফাঁক দিয়েও গ্যাস বেরিয়ে যায়। মিথেনের অণু ছোট ও হালকা হওয়াও এর একটি কারণ।
ধারক তৈরি করা সবচেয়ে কঠিন। IC-তে ধারকত্ব পেতে পাতলা ডাইইলেকট্রিক স্তরের বড় ক্ষেত্রফল লাগে, তাই অল্প মানের ধারকও চিপের অনেক জায়গা নেয়। ট্রানজিস্টর ও ডায়োড একই সিলিকন স্তর দিয়ে খুব ছোট করে বানানো যায়, আর রোধও তুলনামূলক সহজ।
তামার সাথে দস্তা (জিংক) মিশিয়ে পিতল তৈরি হয়। সাধারণ পিতলে প্রায় ৬০-৭০% তামা ও বাকিটা দস্তা থাকে। তামার সাথে টিন মেশালে হয় ব্রোঞ্জ। সিসা ও রুপা পিতলের মূল উপাদান নয়।
তারা পরস্পরকে বিকর্ষণ করবে। প্রতিটি কারেন্টবাহী তার নিজের চারপাশে চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে, আর অন্য তার সেই ক্ষেত্রে বল অনুভব করে। ডান হাতের নিয়মে দেখা যায়, কারেন্ট একই দিকে চললে বল তার দুটিকে কাছে টানে, বিপরীত দিকে চললে দূরে ঠেলে দেয়।
উত্তর রাবার। রাবারে মুক্ত ইলেকট্রন প্রায় নেই, তাই এর ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ চলে না। এজন্য তারের ওপরের আবরণ ও বিদ্যুৎকর্মীর দস্তানা রাবার বা এ ধরনের পদার্থে তৈরি। তামা, লোহা ও রূপা ধাতু, এদের মুক্ত ইলেকট্রন সহজে চলাচল করে। রূপা সবচেয়ে ভালো পরিবাহী।