আধুনিক বাংলা সাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধ: প্রশ্ন ও উত্তর
আধুনিক বাংলা সাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধ টপিকে পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি খাত নিয়োগ পরীক্ষার ১৮১টি প্রশ্ন আছে, এটি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ের অংশ। নিচের ১৫টি নমুনা প্রশ্ন সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো।
উত্তর উপন্যাস। জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে। ১৯৫৫ সালে ঢাকায় শহীদ দিবস পালন করতে গিয়ে ছাত্রদের গ্রেপ্তার আর প্রতিরোধ এর কাহিনি। ভাষা আন্দোলন নিয়ে লেখা প্রথম দিকের উপন্যাসগুলোর একটি এটি। লেখকের অন্য উপন্যাসের মধ্যে আছে ‘হাজার বছর ধরে’ ও ‘বরফ গলা নদী’।
যে পরীক্ষায় এসেছে: PGCL ২০২১ · PGCL ২০২১ · ২ বার এসেছে
উত্তর ছোটগল্প ও উপন্যাস। গদ্যে লেখা কাহিনিনির্ভর সাহিত্যকে কথাসাহিত্য বলা হয়। এখানে ‘কথা’ মানে কাহিনি বা গল্প, কথোপকথন নয়। নাটক সংলাপ আর মঞ্চের জন্য লেখা, তাই আলাদা শাখা। বাংলায় কথাসাহিত্যের বড় নাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।
যে পরীক্ষায় এসেছে: PGCL ২০২১ · PGCL ২০২১ · ২ বার এসেছে
উত্তর মানসী। রবীন্দ্রনাথের ‘মানসী’ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৮৯০ সালে, আর ‘ব্যক্ত প্রেম’ ও ‘গুপ্ত প্রেম’ এর অন্তর্গত। এই বইয়ে কবির প্রেম ও মানসিক দ্বন্দ্বের কবিতা বেশি, আর ছন্দে তাঁর পরিণত হাত প্রথম স্পষ্ট হয়। ‘সোনার তরী’ (১৮৯৪), ‘কল্পনা’ (১৯০০), ‘খেয়া’ (১৯০৬) পরের বই।
উত্তর কাজী কাদের নেওয়াজ। কবিতাটির আসল নাম ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’, প্রশ্নে বানান ছাপার ভুলে বদলে গেছে। এতে বাদশাহ আলমগীর দেখেন তাঁর পুত্র শিক্ষকের পায়ে পানি ঢালছে, কিন্তু নিজের হাতে পা ধুয়ে দিচ্ছে না। বাদশাহ এ নিয়ে শিক্ষককে প্রশ্ন করেন। আলমগীর কবিতার চরিত্র, কবি নন।
উত্তর মাইকেল মধুসূদন দত্ত। ‘দত্তকুলোদ্ভব’ মানে দত্ত বংশে যাঁর জন্ম। মধুসূদন নিজের সমাধির জন্য একটি কবিতা লেখেন, সেখানে নিজেকে ‘দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন’ বলেছেন। কবিতাটি এখন কলকাতায় তাঁর সমাধিফলকে খোদাই করা আছে। বাকি তিন কবির কারও সঙ্গে এই পরিচয় জড়িত নয়।
উত্তর সুকুমার রায়। ‘আবোল তাবোল’ তাঁর ননসেন্স ছড়ার বই, প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালে, তাঁর মৃত্যুর কয়েক দিন পরে। ‘কাতুকুতু বুড়ো’, ‘খিচুড়ি’, ‘বাবুরাম সাপুড়ে’ এর পরিচিত ছড়া। উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর বাবা, সত্যজিৎ রায় তাঁর ছেলে। দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র লেখক।
উত্তর সৈয়দ শামসুল হক। তিনি ১৯৬৬ সালে, মাত্র ২৯ বছর বয়সে, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান। এখন পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে কম বয়সে এই পুরস্কার পাওয়ার নজির হিসেবে পড়ানো হয়। তাঁকে ‘সব্যসাচী লেখক’ বলা হয়, কারণ কবিতা, উপন্যাস, নাটক, গল্প সবখানে তাঁর কাজ আছে।
উত্তর রক্তকরবী। রবীন্দ্রনাথের এই নাটক প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে। যক্ষপুরীর লোভী রাজা আর সোনা তোলা শ্রমিকদের মাঝে নন্দিনী প্রাণ ও মুক্তির প্রতীক। তার ভালোবাসার মানুষ রঞ্জন। নাটকটি যন্ত্রনির্ভর শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে পড়া হয়।
উত্তর সমরেশ বসু। তিনি ‘কালকূট’ ছদ্মনামে ভ্রমণ ও জীবনভিত্তিক লেখা লিখতেন, যেমন কুম্ভমেলা নিয়ে ‘অমৃত কুম্ভের সন্ধানে’। নিজের নামে লিখেছেন ‘গঙ্গা’, ‘বিবর’, ‘প্রজাপতি’। সমরেশ মজুমদার আলাদা লেখক, ‘কালবেলা’ ও ‘উত্তরাধিকার’-এর জন্য পরিচিত। দুজনের নাম মিলে যাওয়ায় এখানে ভুল হয় বেশি।
উত্তর ‘প্রলয়োল্লাস’। কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২) এই কবিতা দিয়েই শুরু, যেখানে ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ বলে নতুনের আগমন ঘোষণা করা হয়েছে। ‘বিদ্রোহী’ বইয়ের দ্বিতীয় কবিতা। ‘ধূমকেতু’ও এ বইয়ে আছে, তবে শুরুতে নয়, আর এটি তাঁর পত্রিকার নামও।
উত্তর বসন্ত। রবীন্দ্রনাথ ১৯২৩ সালে গীতিনাট্য ‘বসন্ত’ কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেন। নজরুল তখন রাজদ্রোহের অভিযোগে কারাগারে ছিলেন। উৎসর্গপত্রে তাঁকে ‘কবি’ বলে সম্বোধন করা হয়। এটি তরুণ নজরুলের প্রতি রবীন্দ্রনাথের স্বীকৃতির বড় উদাহরণ।
উত্তর মদনমোহন তর্কালঙ্কার। চরণ দুটি তাঁর ‘আমার পণ’ কবিতার শুরু, যা উনিশ শতকে লেখা ‘শিশুশিক্ষা’ বইয়ে ছাপা হয়। কবিতায় শিশু সারাদিন ভালো আচরণের প্রতিজ্ঞা করে। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলও শিশুদের জন্য লিখেছেন, তবে এই পঙ্ক্তি তাঁদের নয়।
উত্তর আলোকবর্তিকা। পাঞ্জেরি হলেন জাহাজের সামনে বাতি হাতে দাঁড়ানো নাবিক, যিনি অন্ধকারে পথ দেখান। ফররুখ আহমদের কবিতা 'পাঞ্জেরি'-তে শব্দটি তাই পথপ্রদর্শক বা আলো হাতে দিশা দেখানো মানুষের প্রতীক। সমুদ্র, অন্ধকার, পথিক বা ভাগ্য কবিতার অনুষঙ্গ হতে পারে, কিন্তু শব্দের অর্থ নয়।
উত্তর কুষ্টিয়ার কুমারখালী। কাঙাল হরিনাথ মজুমদার ১৮৬৩ সালে এখান থেকে ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ বের করেন, প্রথমে মাসিক হিসেবে। গ্রামের কৃষক ও সাধারণ মানুষের ওপর জমিদার আর নীলকরদের অত্যাচারের খবর এতে ছাপা হতো। তাঁর কুমারখালীর ছাপাখানা আজ জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষিত।